রাজকোট উইকেট ছিল ব্যাটিং স্বর্গ : মঈন আলী

স্পোর্টস ডেস্ক : ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের কাছে হারের লজ্জা নিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলতে ভারতের মাটিতে পা রাখে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ভারতের মাটিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে আলোকিত পারফরমেন্সের উজ্জলতা ছড়িয়েছে ইংলিশরা। ঢাকা টেস্টে যা করতে পারেনি, ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তা সুদে-আসলে করে দেখিয়েছে ইংলিশরা। ফলে আন্ডারডগ হয়েও, রাজকোট টেস্টে জয়ের স্বপ্ন দেখেও ড্র করে কুক-মঈনরা।

এ ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ১১৭ রান ও দুই ইনিংসে বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে প্রথম টেস্টের সেরা হন ইংল্যান্ডের মঈন আলী। তাই নিজের পারফরমেন্সে খুশী মঈন। তবে ঢাকা টেস্টের স্মৃতি যেন এখনো ভুলতে পারেননি তিনি। তাই রাজকোটের সাথে ঢাকা টেস্টের তুলনা করে মঈন বললেন, ‘ঢাকার তুলনায় রাজকোট উইকেট ছিল ব্যাটিং স্বর্গ ।’

ঢাকা টেস্টের আগে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলে ইংল্যান্ড। নাটকীয়ভাবে ভাগ্যের সহায়তা নিয়ে ঐ টেস্ট জিতে নেয় ইংল্যান্ড। ঐ ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন মঈন। ডিআরএস-এর সহায়তায় চারবার জীবন পান তিনি। নয়তো ২,১৪,১৭ বা ২৯ রানেই থেমে যেতে পারতেন মঈন। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। তাই ঐ টেস্টের পর মঈন বলেছিলেন, ‘এমন উইকেটে ব্যাট করা অত্যন্ত কঠিন।’

চট্টগ্রাম টেস্ট ২২ রানে জিতে ঢাকা টেস্ট খেলতে নামে ইংল্যান্ড। স্পিন বিষে পুড়ে ঐ টেস্টে ছাড়খাড় হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচে বাংলাদেশের তরুণ তুর্কি মেহেদি হাসান মিরাজের ১২ উইকেট শিকারে ১০৮ রানের লজ্জার হার বরণ করে নেয় ইংল্যান্ড। ফলে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করে ইংল্যান্ড।

দুই টেস্টের চার ইনিংসে ইংল্যান্ডের দলীয় সংগ্রহ ছিলো ২৯৩, ২৪০, ২৪৪ ও ১৬৪। ফলে অজস্র সমালোচনা নিয়ে ভারতের মাটিতে পা রাখে ইংল্যান্ড। কিন্তু সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে জো রুট-মঈন-বেন স্টোকসের সেঞ্চুরিতে ৫৩৭ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় ইংল্যান্ড। এমনকি দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের সেঞ্চুরিতে ২৬০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ইংলিশরা। তবে শেষ পর্যন্ত ড্র হয় টেস্টটি।

ইংল্যান্ডের এমন ব্যাটিং পারফরমেন্স, স্বস্তিরই বটে। তবে ঢাকা টেস্টের স্মৃতি যে এখনো দুঃস্মৃতি হয়ে মনের মধ্যে টাটকা হয়ে আছে, তা প্রমাণ মিললো মঈনের বক্তব্যে, ‘ঢাকা টেস্টের পর রাজকোটের এই উইকেটকে স্বর্গ বলা যায়। এটি চমৎকার উইকেট। আমরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করেছি। রুট-স্টোকস-কুকও এই উইকেট উপভোগ করেছে। আমি আমার দায়িত্ব ঠিকভাবেই পালন করেছি। দলের জন্য ভালো কিছু করতে পেরেছি, এটাই অনেক বেশি আনন্দের।’

ঢাকা টেস্ট যে অনেক বেশি কষ্টের ছিলো ইংল্যান্ডের জন্য, মঈনের এমন বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করার মত মানুষ হয়তো এই ক্রিকেট বিশ্বে পাওয়া যাবে না। ঠিক তেমনি দ্বিমত পোষণ করেননি ইংলিশ দলপতি কুকও, ‘দুর্দান্ত ক্রিকেট উইকেট (রাজকোট) এটি। প্রথম তিন দিন ফ্লাটই ছিলো উইকেট। চতুর্থ দিন থেকে উইকেটে টার্ণ নেয়া শুরু করেছে। তবে আমরা আমাদের ইচ্ছা মত ব্যাটিং করতে পেরেছি। চার ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি সেটি প্রমাণ করে। আর ভারতের মাটিতে ৫৩০ রান মানেই হলো, ম্যাচ হাতের মধ্যে থাকা।’

ঢাকায় রান করতে না পেরেই, ঢাকার উইকেটকে নরক বলছেন মঈন-কুক। আবার রাজকোটে রান করতে পেরে, রাজকোটের উইকেটকে স্বর্গ এমনকি দুর্দান্ত উইকেটও বলছেন তারা। তাদের এমনসব বক্তব্য মিলে যাচ্ছে বাংলা প্রবাদের সাথে, ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকাই হয়।’ (টুডেসংবাদ/এআরএ)