ইতালিতে অস্থায়ী শিবিরে রাত কাটাচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ

নিউজ ডেস্ক: ইতালির মধ্যাঞ্চলে গাড়ি, তাঁবু ও অস্থায়ী বাসস্থানে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ। ওই অঞ্চলে তিন মাসের মধ্যে চার দফা বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে।

আগস্ট মাসে অঞ্চলটির কাছে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩শ’ লোক প্রাণ হারায়। ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল ইতালিতে কয়েক দশকের মধ্যে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

সর্বশেষ ভূমিকম্পে কোন প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। শক্তিশালী ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পনের ফলে এখনো ভবনের চুনসুরকি, কুচি পাথর ঝরে পড়ছে।

পেরুগিয়া অঞ্চলের নোরসিয়া শহরের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বিপদ মাথায় নিয়েও নিজ নিজ বাড়িতে থাকার সিন্ধান্ত নিয়েছেন। অঞ্চলটি রোববার সকালে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত।

অন্যরা শহরের কাছেই তাঁবুতে অথবা কর্তৃপক্ষ নির্মিত অ্যাড্রিয়াটিক কোস্টের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছে।

ইতালির বেসামরিক প্রতিরক্ষার প্রধান কর্মকর্তা ফ্যাব্রিজিও কারসিও রোববার বলেন, ‘এটা অত্যন্ত কষ্টকর রাত হতে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘৬.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প গোটা পরিস্থিতিকে পাল্টে দিয়েছে।’

নোরসিয়ার বাসিন্দা স্টিফেনো বোল্ডরিনি তার ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে একটি ভ্যানে থাকছেন।

ভূমিকম্পে নোরসিয়ার মধ্যযুগীয় গির্জা সেইন্ট বেনেডিক্টওর মতো বহু ঐতিহাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।

আগস্ট মাসের ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পনের পর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে মধ্য ইতালির বেশ কয়েকটি ভবন থেকে আগেই মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কারণেই গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে কোন প্রাণহানি ঘটেনি।

কর্মকর্তারা বলেন, তোলেনতিনো শহরের ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে তিন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

তোলেনতিনো শহরের মেয়র গিউসেপে পেজানেসি বলেন, ‘ছোট শহরটি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দিনের সম্মুখীন হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এতে কয়েক হাজার লোক রাস্তায় নেমে এসেছে। চারদিকে আতঙ্ক ও কান্না বিরাজ করছে। আশা করছি এর অবসান ঘটবে। ক্ষতিগ্রস্তরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।’

ক্যাসেলসান্টাংগেলো ও প্রেসি শহরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উসিতা ও আরকুয়াতা গ্রামের বেশ কয়েকটি ভবনও ভেঙ্গে গেছে। (টুডেসংবাদ/এআরএ)