অসীম সাহসী অভিযাত্রীদের জীবনকথা ( পর্ব-১ )

টেলিভিশনের পর্দাতেই আমরা তাদেরকে দেখে অভ্যস্ত। অবিশ্বাস্য আর দুঃসাহসিক সব কাজের জন্যে পৃথিবীজোড়া নাম তাদের। প্রতিদিন রিমোট চেপে তাই বারবার এই মানুষগুলো আর তাদের কাজকেই দেখতে চাই আমরা। কিন্তু যাদেরকে দেখার জন্যে এতটা বেশি আগ্রহ আপনার, ডিসকভারি চ্যানেলের সেই দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের জীবন সম্পর্কে কতটা জানেন আপনি? জানতে ইচ্ছে করছে? চলুন তাহলে দেখে আসি ক্যামেরার ওপাশে অসম্ভব সাহসী এই মানুষগুলোর জীবনকে।

১. ম্যাট গ্রাহাম

আমেরিকায় জন্মগ্রহন করা এই মানুষটির শুরু এবং পরিচিতির পুরোটা জুড়েই রয়েছে ডিসকভারি চ্যানেল। আদিম কৌশলের ওপর দক্ষ এই মানুষটির আরেকটি পরিচয় তার টেলিভিশনের অসাধারন ব্যাক্তিত্ব। ডিসকভারির ডুয়াল সার্ভাইভালের মাধ্যমে টেলিভিশনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন ম্যাট।

তবে এটি ছাড়াও ডিউড, ইউ আর স্ক্রিউড নামক একটি টেলিভিশন শোতেও সহ-উপস্থাপকের আসনে কাজ করে চলেছেন তিনি। ডুয়েল সার্ভাইভালের মতনই এটিও ডিসকভারির একটি অনুষ্ঠান। ২০১৩-২০১৪ সালের ভেতরে করা ডুউড, ইউ আর স্ক্রিউড এর মোট ১৪টি এপিসোডে কাজ করেন ম্যাট। আর ডুয়াল সার্ভাইভালের জন্যে ২০১৪ সালে কাজ করেন মোট ৪ টি এপিসোডে।

এই অনুষ্ঠানটিতে ম্যাট অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও নিজের কাছে যা আছে তার সাথে প্রকৃতির দানকে মিশিয়ে নিয়ে যে চমৎকার কিছু সাফল্য অর্জন করা যায়, খুব কঠিন সমস্যারও সমাধান বের করা যায় এবং সবচাইতে বড় কথা হল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যে টিকে থাকা যায়, সেটাই দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এই টিকে থাকার জন্যে তার দেখানো পন্থাগুলো সবসময়ই যে খুব একটা সহজ হয় তা নয়।

২. বিয়ার গ্রিলস

এডওয়ার্ড মাইকেল গ্রিলস নামের কাউকে মনে পড়ছে আপনার? প্রায় প্রতিদিনই অসম্ভবকে সম্ভব করে চলেন যিনি। মনে পড়ছে? নিশ্চয়ই না! কি করে পড়বে? লম্বাচওড়া নামের অধিকারী এই মানুষটি যে সবার কাছে পরিচিত বিয়ার গ্রিলস নামে। ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড নামক ডিসকভারির জনপ্রিয় শোতে কাজ করা বিয়ারের জন্ম হয় ১৯৭৪ সালের ৭ জুন, ব্রিটেনে। পেশায় অভিযাত্রী, লেখক আর উপস্থাপক হিসেবে পরিচিত এই মানুষটির উপাধি- বর্ন সারভাইভার বা জন্মগত যোদ্ধা। ডিসকভারি ছাড়াও বিয়ার কাজ করেন লন্ডন ও আমেরিকার আরো কিছু দুঃসাহসিক অভিযানমূলক অনুষ্ঠানেও। ২০০৯ সালে সবচাইতে কম বয়েসী হিসেবে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে বিয়ারকে চিফ স্কাউট ঘোষনা করা হয়।

লাটগ্রোভ স্কুল, এটন কলেজ থেকে শুরু করে ব্রিকবেক, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন দিয়ে পড়াশোনার পাট শেষ করা এই যোদ্ধা মাত্র ৮ বছর বয়সেই কাব স্কাউট হন। তিনটি ভাষায় পারদর্শি গ্রিলস লেখাপড়া শেষে সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৯৮ এর ১৬ মে বিয়ার তার ছোট্টবেলার এভারেস্টে চড়ার স্বপ্ন পূরণ করেন। তবে এটাই শেষ নয়, অভিযানপ্রিয় বিয়ার এছাড়াও করেন উত্তর আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া, সবচাইতে দীর্ঘ আভ্যন্তরীন পতন, অ্যান্টার্কটিকা অভিযান, উত্তর-পশ্চিম পেসেজ আভিযানএর মতন আরো অনেক দুঃসাহসিক অভিযান।

টেলিভিশনে বিয়ার প্রথম কাজ শুরু করেন শিউর নামের একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। এরপর মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেও তিনি কাজ করেন। ফ্রাইডে নাইট উইথ জোনাথন রস, দ্যা অপরাহ উইনফ্রে শো, দ্যা টুনাইট শো উইথ জে লেনোর মতন বেশ কিছু টক শোতে উপস্থিত হন বিয়ার। অভিযাত্রী বিয়ারের প্রথম বই ফেসিং আপ। পরে তিনি লেখেন ফেসিং দ্যা ফ্রোজেন ওশেন, মিশন সারভাইভাল সিরিজেরর গোল্ড টু দ্যা গডস, ওয়ে অব দ্যা ওলভ, স্যান্ড অব দ্যা স্করপিয়নসহ আরো অনেক বই। টেলিভিশনে গেট আউট অ্যালাইভ, এস্কেপ ফ্রম দ্যা হেল, দ্যা ওয়াইল্ড, রানিং ওয়াইল্ড উইথ বিয়ার গ্রিলস, বিয়ার্স ওয়াল্ড উইকেন্ডের মতন আরো অনেকগুলো শো করলেও বর্তমানে মানুষ তাকে একনামে চেনে ডিসকভারিতে তার করা ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড অনুষ্ঠানটির জন্যে। প্রতিকূল পরিবেশে কি করে বেঁচে থাকতে হয় এবং দূর্ভাগ্যকে বদলে দিতে হয় নিজের বুদ্ধিমত্তা আর কৌশল আর সাধারন কিছু জ্ঞানেরর মাধ্যমে সেটাই এই অনুষ্ঠানের প্রতিটি এপিসোডে দেখানোর চেষ্টা করেন বিয়ার গ্রিলস।

৩. রিচার্ড রে রওলিংস

১৯৬৯ সালের ৩০ মার্চ জন্ম নেওয়া এই অতি পরিচিত মুখটিকে সবারই চেনে রিচার্ড রওলিংস নামে। টেক্সাসের ফোর্থ ওয়ার্থে বেড়ে ওঠা রওলিংস পেশায় একজন এনট্রেপ্রেনার ও যন্ত্রবিদ। তবে প্রচন্ড ভালো মানের রেসার হিসেবে পরিচিত মানুষটিকে একজন সফল টিভি ব্যাক্তিত্ব বললেও খুব একটা ভুল হয়না। ডিসকভারির সাথে রওলিংস যুক্ত তার ফাস্ট এন লাউডে টিভি শোটির মাধ্যমে, যেখানে প্রতি এপিসোড পিছু তার পেছনে চ্যানেলকে গুনতে হয় মোট ৫০০০০ ইউএস ডলার।গামবল ৩০০০ রেলির প্রথম স্থান অর্জন করা রওলিং ২০১৩ সাল অব্দি ক্যানোনবল রান এ সবচাইতে কম সময়ে শেষ করা রেসার ছিলেন। এতকিছু বাদেও রওলিংসের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে তিনি গ্যাস মাংকি গ্যারেজ ও মাংকি বার এন গ্রীল মিউজিক ভেন্যুর মালিক। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে রওলিংকে দেখা গিয়েছে ডজ ভিহিকলসেস হয়ে টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনগুলোতে অংশ নিতে। তার করা ফাস্ট এন লাউড বর্তমানে ডিসকভারির আত্যন্ত পরিচিত একটি শো বলে খ্যাত যার প্রথম থেকেই রওলিংস এর সাথে আছেন। বর্তমানে শোটির পঞ্চম সিজন চলছে।

 

সূত্র : প্রিয়

লেখক : সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি